ঢাকা বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঢাকা: স্বপ্ন ছিল নিজের জমিতে ছোট্ট একটা ঘর তুলবেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে থাকবেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে দীর্ঘ সময় প্রবাসে থেকে জীবনের সব সঞ্চয় তুলে দিয়েছিলেন স্থানীয় এক জমি বিক্রেতার হাতে। কিন্তু এখন সেই প্রবাসী প্রতারিত হয়ে পথে বসার অবস্থায় পড়েছেন।ঘটনাটি ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামে ঘটেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের সামেদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম(৪০) ও পিতা সামেদ আলী(৫৮)।
ভুক্তভোগী দুবাই প্রবাসী শামসুল আলম এ ঘটনায় সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযুক্তদের তলব করে উভয়ের মধ্যে একটি লিখিত আপোষনামা তৈরী করে দেন। লিখিত আপোষনামায় শর্ত থাকে যে, জমি বিক্রি বাবদ পিতা ও পুত্র দু’জনেই ক্রেতা দুবাই প্রবাসী শামসুল আলমের নিকট থেকে অগ্রীম ১৫(পনের)লক্ষ টাকা গ্রহন করেছেন। জমি রেজিষ্ট্রেশনকালে শতাংশ প্রতি এক লক্ষ টাকা দরে বাকি টাকা বুঝিয়া লইবেন জাহাঙ্গীর গং।
প্রকাশ থাকে যে,শুধু ওই শামসুল আলম নন, আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এরা হলেন- রাইপাড়া ইউনিয়নের ইজ্জত আলীর ছেলে লাল মিয়া(৫৯) ও একই এলাকার বিশাইয়ের মেয়ে ওমান প্রবাসী রাশিদা।এদের কাছ থেকে
জমি বিক্রির নামে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই প্রতারক চক্র। জাহাঙ্গীর ও তার পিতা সামেদ আলী বর্তমানে তারা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও তার পিতা সামেদ আলী একই এলাকার প্রবাসী শামসুল আলমের নিকট ২৩ শতাংশ জমি রাইপাড়া মৌজায় বিক্রির কথা বলে টাকা নেন।প্রথমে
২০১৪ সালে বায়নার কথা বলে ৫ (পাচঁ)লক্ষা টাকা গ্রহন করেন।
পরবর্তীতে আবারও তাদের নগদ টাকা প্রয়োজন দাবী করে আরও দশ(১০)লক্ষ টাকা পিতাপুত্র গ্রহন করেন।
কথা ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমির দলিল রেজিস্ট্রি করে দিবেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি রেজিস্ট্রি না করে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন সামেদ আলী ও জাহাঙ্গীর আলম।পরে জমি রেজিস্ট্রি অথবা টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় টালবাহানা। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে ও শাইনপুকুর পুলিশ ফাঁড়ীতে একাধিকবার মীমাংসা করা হয়। জাহাঙ্গীর সালিসির কাছে সময় ও টাকা ফেরত অথবা জমি লিখে দেওয়ার কথা বললেও ১১ বছরেও টাকা কিংবা জমি বুঝিয়ে দিতে পারেননি। এখন বায়না চুক্তি অনুযায়ী জমি হস্তান্তর না করায় প্রবাসী শামসুল আলম টাকা ফেরত চাইলে উল্টো অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রতারক চক্র টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে তারা গা ঢাকা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শামসুল আলম বলেন,‘‘জীবনের সব সঞ্চয় তুলে দিয়েছিলাম জমির বায়নায়। ভাবছিলাম নিজের একটা ঘর হবে। এখন মনে হয়, ভুল করে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম। আমি প্রায় এগার বছর ধরে আমার প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম গংদের কাছে প্রায় পনের লাখ টাকা জমির বায়না দিয়েছি। জাহাঙ্গীর বলেছিল দ্রুত দলিল ও জমি বুঝিয়ে দিবে। এখন টাকাও দিচ্ছে না জমিও দিচ্ছে না। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমাদের হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। আমি প্রশাসনের কাছে ও আপনাদের কাছে ন্যায় বিচারক চাই।”
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ীতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি।পরে তার ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানে তিনি কাজ করছেন বলে লাইনটি কেটে দেন।এরপর তিনি ফোন বন্ধ রাখেন।
এ বিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, জালিয়াতি ও প্রতারনা করে অর্থ আত্মসাৎ করার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করতে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি আবারও একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।অভিযোগ পেলে বিষয়টিতে প্রাথমিক তদন্ত করা হবে ।পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩০:১৪ ২ বার পঠিত | ● জমির ● দোহারে ● প্রতারণা ● বায়না নিয়ে