ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
• সমালোচনা সঙ্গী করেই সব ভাষা ও ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন রাশমিকা • বিকিনি ও খোলামেলা পোশাকে আপত্তি রাশমিকার, পাশে বিজয় • কয়রায় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে গুম-হত্যার হুমকি • ভালুকায় শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি, আহত ৭২ বছরের বাবা • কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অপেক্ষায় প্রাণ গেল দুই মাসের শিশুর • দুমকির পাঁচ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের • মানিকগঞ্জে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের দুইজন নিহত, সেলফি চলাচল বন্ধ • নয় বছর পর কুয়াকাটায় দুই দিনের পর্যটন কার্নিভাল শুরু কাল • আ. লীগ ও ‘গুপ্ত দল’ বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত: রিজভী • আড়াইশ বছরের আমুয়ার দশোহরা উৎসবে নদীমোহনায় হাজারো মানুষের মিলনমেলা


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » পাউবোর ব্লক বাঁধ পানির নিচে,পানিবন্দি ৭ হাজার মানুষ

পাউবোর ব্লক বাঁধ পানির নিচে,পানিবন্দি ৭ হাজার মানুষ


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


পাউবোর ব্লক বাঁধ পানির নিচে,পানিবন্দি ৭ হাজার মানুষ

পটুয়াখালী: বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নে তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীভাঙন প্রতিরোধে ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্লক বাঁধ নির্মাণ করলেও, তা জোয়ারের পানি ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। একটি টেকসই ও পর্যাপ্ত উচ্চতার স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। এতে এলাকার প্রায় ৭ হাজার মানুষ চরম মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন ও গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে ধূলিয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্লকের বাঁধটি জোয়ারের পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত। পানির ওপরে কেবল বাঁধের হলুদ রঙের নামফলকগুলো কোনোমতে জেগে রয়েছে। এই ফলকগুলো না থাকলে বোঝার উপায় নেই যে, নদীভাঙন রোধে এখানে কোটি কোটি টাকার ব্লক বাঁধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তেঁতুলিয়া নদীর জোয়ারের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতার তুলনায় নির্মিত ব্লক বাঁধের উচ্চতা অনেক কম। ফলে নদীতে সামান্য পানি বাড়লেই তা অনায়াসে বাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করে। যে উদ্দেশ্যে এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল, বাস্তবে তা নদীর তীরবর্তী মানুষের কোনো কাজেই আসছে না।

জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে এনকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারুজীবী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধূলিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং মঠবাড়িয়া এজিটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শ্রেণিকক্ষে পানি ওঠার কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পাঠদান সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও ভাষাসৈনিক সৈয়দ আশরাফ হোসেনের সমাধিস্থলসহ এলাকার বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মন্দির জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

টানা বর্ষণ ও তেঁতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার প্রধান পেশা মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে। জেলেরা নদীতে যেতে পারছেন না। ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রান্নার জায়গায় পানি ঢুকে পড়ায় অধিকাংশ পরিবারে গত কয়েকদিন ধরে চুলায় আগুন জ্বলছে না। ফলে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে দুর্গত মানুষের।

স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ তৌসিফুর রহমান রাফা বলেন, ধূলিয়া ইউনিয়নের মানুষ বছরের পর বছর জোয়ারের পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। এখানে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ব্লক বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী মানুষের কোনো কাজে আসছে না। পানির উচ্চতার চেয়ে বাঁধ নিচু হওয়ায় বর্ষা বা বন্যার সময় সহজেই পানি ভেতরে প্রবেশ করে দরিদ্র মানুষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পটুয়াখালী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও, বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন যে, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। দ্রুত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৫:৩৩   ১২৬ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●







বরিশাল থেকে আরও...


● দুমকির পাঁচ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের
● নয় বছর পর কুয়াকাটায় দুই দিনের পর্যটন কার্নিভাল শুরু কাল
● আড়াইশ বছরের আমুয়ার দশোহরা উৎসবে নদীমোহনায় হাজারো মানুষের মিলনমেলা
● কঁচা নদীতে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস
● কাঁঠালিয়ায় ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার, গাঁজাসহ আটক আরও একজন



আর্কাইভ