ঢাকা    রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
• নলছিটিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজনেরা • চরফ্যাসনে সারের কৃত্রিম সংকট, পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে • সুজানগরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত • কাউখালীতে নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের সংবর্ধনা, মানসম্মত শিক্ষার আহ্বান • ডিমলায় নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস উদ্‌যাপন • ভেড়ামারায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, মূল্য ৩ লাখ টাকা • লালমোহনে ৬০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক • ডিমলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির র‍্যালি ও আলোচনা সভা • দুমকিতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত, র‍্যালি ও আলোচনা সভা • আমতলীতে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » চরফ্যাসনে সারের কৃত্রিম সংকট, পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে

চরফ্যাসনে সারের কৃত্রিম সংকট, পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে


নোমান সিকদার
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬


চরফ্যাসনে সারের কৃত্রিম সংকট, পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে

ভোলা: চরফ্যাসন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বরাদ্দের সার। অথচ স্থানীয় খুচরা বাজারে দেখা দিয়েছে সারের সংকট। এরই মধ্যে কোস্টগার্ড ও পুলিশ কয়েকটি চালান জব্দ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, পাচার হওয়া সারের তুলনায় জব্দের পরিমাণ খুবই নগণ্য। তাদের ভাষ্য, কয়েকটি ইউনিয়নে বরাদ্দের তুলনায় কৃষকের সংখ্যা কম। এ সুযোগে ডিলাররা বাড়তি দামে সার বিক্রি করেন। পরে অবশিষ্ট সার চোরাকারবারিদের মাধ্যমে মিয়ানমারে পাচার করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাসন পৌরসভাসহ উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ২২ জন সার ডিলার রয়েছেন। প্রতি মাসে ডিওর মাধ্যমে তাঁদের নামে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি—এই চার ধরনের সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রত্যেক ডিলারের জন্য বরাদ্দ থাকে ২২ টন। ডিলাররা এসব সার পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিক্রি করেন।

একাধিক সূত্র জানায়, ডিলাররা সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খুচরা ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছে চড়া দামে সার বিক্রি করেন। পাশাপাশি মাস শেষে অবশিষ্ট সার চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে এসব সার ট্রলারে করে নৌপথে মিয়ানমারে পাচার করা হয়। কয়েকটি চালান আটক হলেও অধিকাংশই গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

গত শুক্রবার দুটি ইউনিয়নের ডিলারের সঙ্গে কথা বলে সমকাল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোর ডিলারদের নামেও অন্য ইউনিয়নের মতো একই পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এসব এলাকায় কৃষকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এ সুযোগে ডিলাররা উদ্বৃত্ত সার চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে খুচরা বাজারেও সারের সংকট তৈরি হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, চোরাকারবারিদের কাছে সার বিক্রি না করলে সেগুলো স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করা যেত। দাম বেশি হলেও অন্য এলাকার কৃষকেরা তা কিনতে পারতেন। কিন্তু সার মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাওয়ায় বেশি দাম দিয়েও অনেক কৃষক তা পাচ্ছেন না। এতে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চর কুকরিমুকরির সার ডিলার ও মেসার্স জাকির ট্রেডার্সের মালিক মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, তাঁর ডিলারশিপের আওতায় নিয়ম মেনেই সার বিক্রি করা হয়। কালোবাজারে বা চোরাই পথে সার বিক্রির মতো কোনো অপকর্মে তিনি জড়িত নন।

সার জব্দের অভিযান

সর্বশেষ গত বুধবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন তেঁতুলিয়া নদী থেকে ৪৯২ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে কোস্টগার্ড। চরমনিকা দক্ষিণ জোনের সদস্যরা এ অভিযান চালান। এ সময় আটজনকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন—নোয়াখালীর আজগর হোসেন ও সেলিম মিয়া, লক্ষ্মীপুরের কবির হোসেন, ভোলার আব্দুল মমিন, চরফ্যাসনের মো. শামীম ও মো. ইফসুফ, দুলারহাট থানার মো. সিরাজ এবং দৌলতখানের মো. রায়হান। গত বৃহস্পতিবার রাতে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ১২ আগস্ট উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেতুয়া নতুন ফিশারি ঘাট এলাকা থেকে ২৯৩ বস্তা সার জব্দ করে পুলিশ। এ সময় সার পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও একটি বড় ফিশিং বোটও জব্দ করা হয়। সেদিন চারজনকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন—নোয়াখালীর সিরাজ (৬০), সোহেল (৩২) ও শাহারাজ (৪৩) এবং চরফ্যাসনের পারভেজ (৪০)। পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

বেতুয়া এলাকার এক মাঝি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই নৌপথ ব্যবহার করে আসছে। তারা সারসহ বিভিন্ন পণ্য মিয়ানমারে পাচার করে। সেখান থেকে ফেরার সময় ট্রলারে করে ইয়াবাসহ মাদকের চালান নিয়ে আসে।

আরেকটি ঘটনা ঘটে গত ২৩ আগস্ট। ওই দিন বিকেলে উপজেলার চর কচ্ছপিয়া ঘাটে ট্রলারসহ ১৭৫ বস্তা সার আটক করেন কোস্টগার্ড সদস্যরা। এসব বস্তার মধ্যে ছিল ১০০ বস্তা ইউরিয়া, ৪০ বস্তা ডিএপি, ১৫ বস্তা টিএসপি ও ২০ বস্তা এমওপি সার। তবে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হোসেনের উপস্থিতিতে অঙ্গীকারনামায় সই নেওয়ার পর ট্রলার ও সার ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে লোকমান হোসেন তখন সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, বিসিআইসির সার ডিলার মেসার্স জিসান ট্রেডার্সের মালিক জাহিদ হাসানের কাছ থেকে খুচরা ডিলার মালেক গাজী সার সংগ্রহ করেছিলেন। সেগুলো চর কুকরিমুকরি এলাকার কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে চর কচ্ছপিয়া কোস্টগার্ড ১৭৫ বস্তা সার আটক করেছিল।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বুধবারের অভিযান সম্পর্কে জানান, কোস্টগার্ড আউটপোস্ট চরমানিকা জোনের সদস্যরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলাচলকারী একাধিক ট্রলারে তল্লাশি চালান। এ সময় একটি ট্রলার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সেটির গতিরোধ করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে মাছ রাখার গুদাম (খোন্দল) থেকে প্রায় ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের ৮৯২ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রলারসহ আটজনকে আটক করা হয়। এসব সার কোন ডিলারের কাছ থেকে কেনা হয়েছে, তা জানা যায়নি।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা এসব বিষয়ে সমকালকে বলেন, জব্দ করা সার, পাচারে ব্যবহৃত ট্রলার ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব সার কোথা থেকে এসেছে, তা নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও পুলিশ তেমন কোনো তথ্য পায়নি। তিনি আরও বলেন, ‘এসব সার পাচারে আমাদের উপজেলার ডিলার জড়িত আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫২:৪৪   ১ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●







বরিশাল থেকে আরও...


● নলছিটিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজনেরা
● চরফ্যাসনে সারের কৃত্রিম সংকট, পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে
● কাউখালীতে নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের সংবর্ধনা, মানসম্মত শিক্ষার আহ্বান
● লালমোহনে ৬০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক
● দুমকিতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত, র‍্যালি ও আলোচনা সভা



আর্কাইভ