ঢাকা    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের বিবৃতির সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চরফ্যাসনে শিক্ষার্থীদের কুইজ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক পরিচয়:ফারাহ শাম্মী-এনডিসি হাতিয়ায় ইউএনওর নিকট শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া অভিযোগ করলো শিক্ষার্থীরা পবিপ্রবির লেকের মাছ পেলো হলের শিক্ষার্থীরা কুয়াকাটা সৈকতে তীব্র ভাঙন, বিলীন হওয়ার পথে ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স কাঁঠালিয়ায় পুলিশ অফিসার যখন শিক্ষক পটুয়াখালীতে মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি অব্যাহত, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কাউখালীতে পাষন্ড ছেলের আঘাতে মায়ের মৃত্যু, ছেলে গ্রেপ্তার লালমোহনে হেলিপ্যাডে জুড়ে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়,দুর্গন্ধে এলাকাবাসী


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলো পুলিশ

গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলো পুলিশ


লালমোহন ( ভোলা ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫


গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলো পুলিশ

ভোলা: রাত্রীকালিন অভিযানের নামে পথচারী ও অটো চালককে আটক করে গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার লালমোহন থানার এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে। গত ৭জুন পবিত্র ঈদ উল আযহার দিবাগত রাতে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চরলক্ষী গ্রামের ফলপান বাড়ির দরজায় ছালাউদ্দিনের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদ উল আযহার দিন (শনিবার) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে রাত্রীকালিন অভিযানের অংশ হিসেবে কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামের ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়ক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন লালমোহন থানার এসআই রেহান উদ্দিন।
এসময় রাস্তায় মো. হারুন নামের এক অটো চালককে দাঁড় করিয়ে চাবি রেখে দেন এসআই রেহান। তখন ওই স্থানে কিছু লোকজন থাকলেও পুলিশের ভয়ে দৌড় দিলেও তাদের মধ্য থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে অটো চালকসহ ওই দুজনকে নিয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে স্থানীয় ছালাউদ্দিনের চায়ের বন্ধ দোকান খুলতে বাধ্য করেন ওই এসআই।
এসময় দোকান বন্ধ করে ভেতরে ঘুম যাচ্ছিলেন ছালাউদ্দিন ও তার বড় ভাই ফারুক। পুলিশ পরিচয়ে দোকানে ঢুকেই ছালাউদ্দিনকে চড়-থাপ্পড় শুরু করলে ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় তার ভাই ফারুক।
পরে ছালাউদ্দিনের দোকান তল্লাসির নামে তার ক্যাশ ও দোকানের চাবি নিয়ে যান এবং মালামাল তছনছ করেন এসআই রেহান। একপর্যায়ে টেবিলের ওপর গাঁজার পুটলি রেখে এগুলো দোকানি ও আটককৃতদের কাছে পাওয়া গেছে বলে দাবি করে কালমা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান মুন্সি ও ওই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিনকে খবর দেন এবং তারা আসলে আটককৃতদের ছাড়াতে দুইলক্ষ টাকা দাবি করেন এসআই রেহান।

দোকানি ছালাউদ্দিন বলেন, ঈদের দিবাগত রাতে আমার বড় ভাইসহ দোকানে ঘুমিয়ে ছিলাম। এসময় পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমার দোকান খুলতে বাধ্য করেন লালমোহন থানার এসআই রেহান। পরে দোকান খোলার সাথে সাথেই আমার ভাইকেসহ আমাকে মারধর শুরু করেন তিনি। এসময় ভয়ে আমার ভাই পালিয়ে গেলেও আমাকে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে দোকানে বসিয়ে রাখে।
পরে পুলিশ নিজেদের কাছ থেকে গাঁজার পুটলি দোকানের টেবিলে রেখে আমিসহ পুর্বের আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন এবং কালমা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান মুন্সিকে খবর দেন। পরে তিনি এসে পুলিশের সাথে দেন দরবার করে একলক্ষ টাকার বিনিময়ে আমাদেরকে ছাড়িয়ে রাখেন।
অটো চালক মো. হারুন বলেন, আমি অটো নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে দাঁড়াতে সিগন্যাল দেয় পুলিশ। আমি দাঁড়ানোর সাথে সাথে আমার অটোর চাবি নিয়ে আমাকে হ্যান্ডক্যাপ পরায় তারা। পরে ছালাউদ্দিনের দোকানে নিয়ে নিজেদের কাছ থেকে গাঁজা রেখে আমাদেরকে ফাঁসানো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় নেতাদেরকে ফোন দিয়ে আনেন এসআই রেহান উদ্দিন। পরে নেতাদের মাধ্যমে একলক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পাই।
জানতে চাইলে কালমা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান মুন্সি বলেন, এসআই রেহান আমাকে খবর দিয়ে এনে আটককৃতদের কাছে গাঁজা পাওয়া গেছে বলে জানান এবং এদেরকে ছাড়িয়ে রাখার জন্য বলেন। সেক্ষেত্রে দুইলক্ষ টাকা ম্যানেজ করে দিতে বলেন।
কালমা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন জানান, ঈদের দিন রাতে কালমা ইউনিয়নের বিট পুলিশ এসআই রেহান আমাকে একাধিকবার ফোন দিলেও ঘুম চোখে থাকার কারণে রাত চারটার দিকে ঘটনাস্থলে আসি। এসময় শাহাজান মুন্সিসহ থানার পুলিশ ও আটককৃতদের দেখতে পাই। পরে জানতে পারি আটককৃতদের ছাড়াতে দুইলক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন ওই এসআই। পরে আটককৃতদের সাথে আলাপ করে অবশেষে তাদেরকে একলক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে রাখতে সক্ষম হই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমোহন থানার এসআই রেহান উদ্দিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে ব্যস্ততার সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ধরণের কোনো ঘটেনি।
এদিকে লালমোহন থানা এলাকার বিভিন্ন মামলার ধারা কমানোর নামে বিবাদীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার একাধিক তথ্যও রয়েছে। ৫ আগস্টের পরেও পুলিশের আগের চেহারায় হতভম্ব লালমোহনের মানুষ। তাই এসব অনিয়ম রোধে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতনমহল।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৬:৩২   ১৮৪ বার পঠিত  |         







বরিশাল থেকে আরও...


চরফ্যাসনে শিক্ষার্থীদের কুইজ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ
পবিপ্রবির লেকের মাছ পেলো হলের শিক্ষার্থীরা
কুয়াকাটা সৈকতে তীব্র ভাঙন, বিলীন হওয়ার পথে ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স
কাঁঠালিয়ায় পুলিশ অফিসার যখন শিক্ষক
পটুয়াখালীতে মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি অব্যাহত, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত



আর্কাইভ