ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
![]()
চট্টগ্রাম: ফটিকছড়ি উপজেলায় হালদা নদীতে পড়ে সদ্য বিয়ে করা নুর উদ্দীন মনজু (৩৫) নামে এক যুবক নিখোঁজ হওয়ার চার ঘন্টা পর স্থানীয় জনতা নদীতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সোয়া ২ টায় তার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের সিদ্ধাশ্রম ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচ পুকুরিয়া চাঁদের ঘোনা গ্রামের আব্দুল মাজিদ টেন্ডল বাড়ীর নুরুল ইসলামের এক মাত্র সন্তান।
জানা গেছে, প্রবাসী মনজু ও তার বন্ধু তাজু পার্শ্ববর্তী সুয়াবিল ইউনিয়ন থেকে খেলা দেখে বাড়ী ফেরার সময় হালদা নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে মোটর সাইকেল যোগে পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেল সহ তারা হঠাৎ নদীতে পড়ে যায়। এ সময় মঞ্জুর সাথে থাকা তার বন্ধু তাজু উদ্দীন হালদা নদী থেকে সাতাঁর কেটে উঠতে পারলেও মঞ্জু উঠতে পারেনি। তাদের নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে এলাকার লোকজন মনজুকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পাওয়ায় হালদা নদীর জোয়ারের পানি কমে গেলে রাত দূটায় তাল লাশ খুঁজে পাওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে মঞ্জুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজন হারানোর কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান ও স্বামীকে হারিয়ে পরিবারটির ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকার নেমে এল।
প্রতিবেশী আর আত্মীয়স্বজনেরা ভিড় জমিয়েছেন শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে, কিন্তু কোনো সান্ত্বনাই যেন যথেষ্ট নয়।
মঞ্জুর বন্ধু সাহেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মঞ্জু আর তার বন্ধু তাজুদ্দিন একসঙ্গেই সাঁকো পার হচ্ছিল। হঠাৎই তারা পড়ে যায়। তাজুদ্দিন কোনোমতে সাঁতরে কিনারে উঠতে পারলেও মঞ্জু স্রোতের টানে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গভীর রাতে ওর লাশটা পেলাম আমরা।’
প্রতিবেশী সোহেল বলেন, ‘ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে মঞ্জু সবেমাত্র ঘর বেঁধেছিল। কিন্তু সেই মানুষটিই আজ চিরতরে হারিয়ে গেল। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে যেন নদীর স্রোতও থমকে গিয়েছিল শত শত মানুষের আহাজারিতে। বারবার আজানের ধ্বনিতে হয়তো নদীর বুকটাও শান্ত হওয়ার চেষ্টা করছিল।’
মনজুর আত্নীয় মো. লোকমান বলেন, ‘এই মৃত্যু শুধু একটা পরিবারের শোক নয়, এ এক গভীর ক্ষত। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে ছিল সে, পরিবারে তিনটি বোন আছে। ওদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তা হচ্ছে।’
স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পাথর হয়ে গেছেন নববধূ মিনা আকতার। হাতের মেহেদির রঙ এখনো টাটকা, মুছে যায়নি। অবিরত বিলাপ করতে করতে তিনি বলছিলেন, ‘আমার ভাগ্যে কি এটাই লেখা ছিল? বিধাতার কাছে আমি কি এটাই চেয়েছিলাম?’
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা আবু তারা বেগম। কখনো শোকে জ্ঞান হারাচ্ছেন, কখনো পাথর হয়ে চেয়ে থাকছেন শূন্য দৃষ্টিতে। বুক চাপড়ে তিনি বিলাপ করছেন, ‘আমার বুকের মানিককে কেড়ে নেওয়ার আগে আল্লাহ কেন আমার মরণ দিল না!
উল্লেখ্য গত ২০ মার্চ মনজু নববধূকে নিজের বাড়িতে উঠিয়ে আনলেও ১৫ এপ্রিল মহাধূমধামে বিবাহত্তোর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৪:০১ ২০৮ বার পঠিত | ● উদ্ধার ● চট্টগ্রাম ● ফটিকছড়ি ● মরদেহ ● যুবক